Connect with us

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ষবরণ উৎসবে হামলা : নিজের পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিয়েন্স শহরে নববর্ষের অনুষ্ঠানে পিকআপ ট্রাক দিয়ে হামলাকারী নিজের পরিবারের সদস্যদেরও হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরে মত পরিবর্তন করেছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন ইসলামিক স্টেটে (আইএসআইএস)। এসব বিষয় নিয়ে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে একাধিক ভিডিও রেকর্ড করেছেন তিনি। ভিডিওগুলো দেখেছেন, এমন একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা এসব কথা বলেছেন।

শামসুদ-দীন জব্বার (৪২) অরলিয়েন্স শহরের বুরবোন স্ট্রিটে স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণের আনন্দ উৎসবে সমবেত মানুষের ওপর একটি পিকআপ ট্রাক তুলে দেন। এরপর তিনি লাফ দিয়ে নেমে একটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করেন। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। আহত হন কয়েক ডজন। পুলিশের পাল্টা গুলিতে জব্বারও নিহত হন।

তদন্তকারীরা জব্বারের কিছু ভিডিও খতিয়ে দেখেছেন। এসব ভিডিওতে তিনি নিজের পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা, আইএসে যোগদান, বিবাহবিচ্ছেদ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নিজের বাসা থেকে লুইজিয়ানায় আসার পথে তিনি এসব ভিডিও ধারণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেক্সাসে জন্মগ্রহণকারী জব্বার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ছিলেন। কিছুদিন আফগানিস্তানেও তিনি কাজ করেছেন।

ভিডিওতে কী বলেছেন জব্বার

ভিডিওগুলো খতিয়ে দেখেছেন, এমন দুই তদন্ত কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রথমে জব্বার তাঁর নিজের পরিবারকে ‘উদ্‌যাপনের’ জন্য একটি জায়গায় জড়ো করার পরিকল্পনা করেছিলেন। হত্যা করার জন্যই তিনি তাঁদের এক জায়গায় জড়ো করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পরিকল্পনা বাতিল করেন এবং আইএসে যোগ দেন। কেন তিনি আইএসে যোগ দেবেন, এ বিষয়ে ভিডিওতে তিনি একাধিক ‘স্বপ্নের’ কথা উল্লেখ করেছেন।

ভিডিওগুলো সিএনএন আলাদা করে যাচাই করে দেখতে পারেনি। এসব ভিডিও জব্বার টেক্সাসের বাসা থেকে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে আসার পথে করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু ভিডিওগুলো তৈরির সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।

জব্বারের ট্রাক থেকে কিছু ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ও আইএসের একটি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষগুলো।

নিউ অরলিয়েন্সে নববর্ষের অনুষ্ঠানে গাড়িচাপা দেওয়া সন্দেহভাজন অভিযুক্ত শামসুদ-দীন জব্বার এক দশকের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এই ছবিতে জব্বারকে লুইজিয়ানার ফোর্ট জনসনের (সাবেক ফোর্ট পোলক) কাজ করতে দেখা যাচ্ছে
নিউ অরলিয়েন্সে নববর্ষের অনুষ্ঠানে গাড়িচাপা দেওয়া সন্দেহভাজন অভিযুক্ত শামসুদ-দীন জব্বার এক দশকের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এই ছবিতে জব্বারকে লুইজিয়ানার ফোর্ট জনসনের (সাবেক ফোর্ট পোলক) কাজ করতে দেখা যাচ্ছেছবি: রয়টার্স
সেনাবাহিনীতে চাকরি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো জব্বারের ভিডিওগুলো খতিয়ে দেখছে। একজন সাবেক সেনাবাহিনীর সদস্য কীভাবে এমন একটি ভয়াবহ হামলা চালালেন, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বুধবার সিএনএনকে বলেছেন, জব্বার এক দশকের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। ২০০৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি আফগানিস্তানে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি সক্রিয় দায়িত্ব থেকে অবসরে যান। তবে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি আর্মি রিজার্ভেই ছিলেন। সার্জেন্ট হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান।

আবাসন খাতে চাকরি
টেক্সাসের বিউমন্ট শহরে জন্মগ্রহণকারী জব্বার ২০২০ সালে ইউটিউবে ‘পারসোনাল ইন্ট্রোডাকশন’ নামের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এতে তিনি নিজেকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরভিত্তিক আবাসন খাতের একজন এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। ওই ভিডিওতে জব্বার বলেছিলেন, ‘মহান সেবা বলতে কী বোঝায়, সেনাবাহিনী আমাকে তা শিখিয়েছে। কোনো বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারা ও সবকিছুকে গুরুত্বসহকারে নেওয়ার অর্থ কী, তা-ও আমি সেখান থেকে শিখেছি। কোনো কিছু যাতে নির্বিঘ্নে করা যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো বিষয় বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার ব্যাপারটিও আমি সেনাবাহিনী থেকে শিখেছি।’

ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে বড় অক্ষরে ‘ডিসিপ্লিন’ লেখা একটি পোস্টারের পাশে বসে কথা বলতে দেখা গেছে। সেখানে তাঁর পাশে ‘লিডারশিপ’ শিরোনামের একটি বই ছিল।

অনলাইনের একটি জীবনবৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, জব্বার সেন্ট্রাল টেক্সাস কলেজ থেকে ২০১০ সালে দ্বাদশ শ্রেণি (অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি) পাস করেন। জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক পাস করেন ২০১৭ সালে। তাঁর দুটো ডিগ্রিই কম্পিউটারবিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি পরামর্শক সংস্থা ডেলয়েট ও অ্যাকসেঞ্চারে ব্যবসার উন্নয়ন এবং ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কাজ করেছেন।

এক বিবৃতিতে ডেলয়েট বলেছে, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি আমাদের সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা জেনে আমরা হতবাক। সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসেবে যে ব্যক্তির নাম বলা হয়েছে, তিনি ২০২১ সাল থেকে আমাদের এখানে কর্মকর্তা পর্যায়ে কাজ করছেন। সবার মতো আমরাও এই লজ্জাজনক ও অর্থহীন সহিংসতার জন্য ক্ষুব্ধ। আমরা কর্তৃপক্ষগুলোকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করছি।’

টেক্সাস রিয়েল স্টেট কমিশনের তথ্যমতে, জব্বার ২০১৯ সালে আবাসন খাতের লাইসেন্স পান, যার মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হয়। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আবাসন খাতের ক্লাসে চুক্তি আইন ও অর্থায়ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।

বিবাহবিচ্ছেদ
আদালতের তথ্য থেকে জানা যায়, জব্বারের দুবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম স্ত্রী ২০১২ সালে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত তাঁকে সন্তানের কত ভরণপোষণ দিতে হবে তা বেঁধে দেন, যা পরবর্তী সময়ে তাঁর আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে। ২০২২ সালে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে মামলা চলাকালে ২০২০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে টেক্সাসের একজন বিচারক একটি রায় দেন। এতে আদালত দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁকে সংযত আচরণের নির্দেশ দেন। রায়ে জব্বারকে তাঁর সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রীকে হুমকি, শারীরিক ক্ষতি বা তাঁদের কোনো সন্তানের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। অনুরূপভাবে তাঁর সাবেক এই স্ত্রীকেও একই ধরনের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার নথিতে জব্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁদের বিয়ে না টেকার কারণ হিসেবে ‘মতবিরোধ বা ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বের’ কথা উল্লেখ করেছেন।

চুরির মামলা
টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি আদালতের নথি থেকে জানা যায়, জব্বার ২০০২ সালে একটি চুরির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এ ধরনের মামলায় ৫০ থেকে ৫০০ ডলার জরিমানা দিতে হয়। ৯ মাস ‘কমিউনিটির পর্যবেক্ষণে’ থাকতে হয়।

মাদক মামলা
নর্থ ক্যারোলাইনার ডিস্ট্রিক্ট আদালতের নথি থেকে জানা যায়, সেনাবাহিনীর স্থানীয় ঘাঁটি ফোর্ট ব্র্যাগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে ২০১৫ সালে জব্বার অভিযুক্ত হয়েছিলেন। নর্থ ক্যারোলাইনার ওই সামরিক ঘাঁটি বর্তমানে ফোর্ট লিবার্টি নামে পরিচিত।

ওই নথি থেকে আরও জানা যায়, ২০১৪ সালের নভেম্বরে জব্বার ক্ষতিকর পদার্থ গ্রহণ করেছিলেন। তখন তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ বৈধ মাত্রার চেয়ে বেশি ছিল।

তখন জব্বার ‘লেভেল ফাইভ ডিডব্লিউআই’-এ অভিযুক্ত হয়েছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে নর্থ ক্যারোলাইনায় এটি সবচেয়ে কম শাস্তি।

নথিপত্র থেকে আরও জানা যায়, জব্বারের গাড়ির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছিল। ১২ মাস তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। জরিমানা করা হয়েছিল ২০০ ডলার। একই সঙ্গে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা কমিউনিটি সেবা দিতে বলা হয়েছিল।

জব্বারকে মাদকের অপব্যবহারের মূল্যায়ন ও চিকিৎসা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশন অফিসের একটি অ্যালকোহল বা মাদকসংক্রান্ত পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বলা হয়েছিল।

আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিয়েন্সে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, হামলাকারীর ছবি প্রকাশ
১৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিয়েন্সে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, হামলাকারীর ছবি প্রকাশ
অর্থকষ্ট

৪২ বছর বয়সী জব্বার সম্প্রতি অর্থকষ্টে ছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদের মামলার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের এক ই–মেইলে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আমার বাসার বন্ধকের অর্থ পরিশোধ করতে পারছি না। তখন বাসা বন্ধক বাবদ তাঁর বাকি ছিল ২৭ হাজার ডলারের বেশি।’

একই ই–মেইলে জব্বার এটাও লিখেছেন, ‘ব্লু মেডো প্রপার্টিজ নামে আমি যে ব্যবসা শুরু করেছিলাম, তাতে আগের বছর (২০২১ সালে) আমার প্রায় ২৮ হাজার ডলার লোকসান হয়েছে। অন্যান্য ব্যবসাও সফলতার মুখ দেখেনি। আমার ক্রেডিট কার্ডে ঋণ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার।’

একই ওয়েবসাইটের গাড়ি

জব্বার যে গাড়ি দিয়ে হামলা চালিয়েছেন, সেটি ফোর্ড এফ-১৫০ মডেলের। বৈদ্যুতিক ট্রাকটি তিনি ‘টুরো’ নামের একটি ওয়েবসাইট থেকে ভাড়া করেছিলেন। এই ওয়েবসাইট থেকে গাড়ির মালিকেরা অন্য মানুষকে নিজেদের গাড়ি ভাড়া দিতে পারেন। ওই গাড়ির মালিক টুরোর মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া দেওয়ার কথা সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে নিউইয়র্কের লাস ভেগাস শহরে ট্রাম্প হোটেলের সামনে গতকাল বুধবার টেসলার একটি সাইবারট্রাক বিস্ফোরিত হয়ে চালক মারা গেছেন। এতে অন্তত সাতজন পথচারী আহত হয়েছেন। এই সাইবারট্রাকের সঙ্গেও টুরো ওয়েবসাইটের সম্পর্ক রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো নিহত চালকের নাম প্রকাশ করেনি। এটা সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক আদালতে দখলদার ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়

নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল ২২ জুন নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) বাংলাদেশের দখলদার সরকারের তথাকথিত প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে রোম সংবিধির ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগ দায়ের করেন কানাডা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমডি হাসান। তিনি গত ৫ অগাস্ট থেকে ১৮ অগাস্ট ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে নিহত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর হয়ে যাওয়া নির্মম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, এই মর্মে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতঃ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুস সহ মোট ৬৪ জনের বিরুদ্ধে উপরে উল্লেখিত দুইটি অপরাধ হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগ দাখিল করেন। জনাব হাসানের আইনজীবি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার সলিসিটর নিঝুম মজুমদার।

ইউনুস ছাড়াও এই ৬৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে আসিফ নজরুল, লে জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব) শাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দা রেজওয়ানা, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সহ ইউনুসের উপদেষ্টা মন্ডলীর সকল সদস্য এবং কথিত ছাত্র বৈষম্য জোটের মোহাম্মদ হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম, আবু বকর মজুমদার সহ মোট ৬৪ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখ্য অভিযোগ আনা হয়।
এই অভিযোগে মূল অভিযোগপত্রের সাথে প্রায় ১৭০০ পৃষ্ঠার তথ্য-নথি-পত্র প্রমাণ স্বরূপ যুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য যে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নাম করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ইউনুস সরকার গত ৫ ই অগাস্ট থেকে ১৭ ই অগাস্ট(২০২৪) পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর নির্ম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মত আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠিত করে যেখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা, ধর্ষন, দেশ ত্যাগে বাধ্য এবং লক্ষ লক্ষ ঘরবাড়ি, সম্পদ ইত্যাদি বিনষ্ট করা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দাখিলকৃত এই অভিযোগের মধ্যে জনাব এম ডি হাসান কানাডাপ্রবাসী প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করলেন। তবে এই ধরনের আরো ১৫ হাজার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করবার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে খুব শিঘ্রীই ক্ষতিগ্রস্থ সংঘুব্ধ ব্যাক্তিরা একে একে অভিযোগ দায়ের করবেন।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ নিয়ে ফলকার টুর্ক : সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলাম, ফলশ্রুতিতে পরিবর্তন দেখলাম

বাংলাদেশে জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে দমন–পীড়নে অংশ না নিতে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করার পর সরকার পরিবর্তন হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্ক এ কথা বলেছেন। বিবিসির ওয়েবসাইটে বুধবার হার্ডটক অনুষ্ঠানের এই পর্ব প্রকাশ করা হয়। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্কের সঙ্গে কথা বলেন বিবিসির উপস্থাপক স্টিফেন সাকার।

অনুষ্ঠানে গাজা, সুদান, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে স্টিফেন সাকার ফলকার টুর্ককে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মূল্যবোধ মেনে এসব পরিস্থিতি সমাধানে জাতিসংঘকে ক্ষমতাহীন মনে হচ্ছে। এর জবাব দিতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ফলকার টুর্ক।

ফলকার টুর্ক বলেন, ‘আমি আপনাকে উদাহরণ দিচ্ছি, যেখানে এটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। আমি গত বছরের বাংলাদেশের উদাহরণ দিচ্ছি। আপনি জানেন জুলাই–আগস্টে সেখানে ছাত্রদের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।’ বাংলাদেশে তখন শেখ হাসিনার সরকার আমলে ছাত্রদের আন্দোলন দমনে ব্যাপক নিপীড়ন চলছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য বড় আশার জায়গা ছিল আসলে আমরা কী বলি, আমি কী বলি, আমরা কী করতে পারি এবং আমরা ওই পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করি।

আমরা প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করি, যদি তারা এতে জড়িত হয়, তার অর্থ দাঁড়াবে তারা হয়ত আর শান্তিরক্ষী পাঠানোর দেশ থাকতে পারবে না। ফলশ্রুতিতে আমরা পরিবর্তন দেখলাম।’ ফলকার টুর্ক বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলেন, তিনি আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে বললেন, আপনি কি একটি তথ্যানুসন্ধানী দল পাঠাতে পারেন, পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন এবং সেখানে যা ঘটছি, তা তদন্ত করতে বললেন। আমরা এগুলোই করেছিলাম। এবং এটা কার্যত সাহায্য করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি গত বছর বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। আমরা একটি অবস্থান নেওয়ায়, আমরা কথা বলায় এবং তাদেরকে সহযোগিতা করায় ছাত্ররা আমাদের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ ছিল।’

সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ফলকার টুর্ক বলেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা হবে। কারণ, ইউএসএআইডি এবং বিদেশি সহায়তা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, সিরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশের দেশগুলোতে থাকা সহিংসতার শিকার মানুষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের ক্ষেত্রে এটা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধ করতে তাঁরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনের গাজার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, সেখানে যা ঘটছে, তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি : ন্যাটো সদস্যরা যথেষ্ট অর্থ না দিলে সুরক্ষা দেবেন না ট্রাম্প

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মিত্রদের রক্ষা করতে চান না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের মিত্রদের সুরক্ষায় তার ইচ্ছা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, নিজের প্রতিরক্ষায় ন্যাটো সদস্যরা যদি যথেষ্ট অর্থ ব্যয় না করে তবে তিনি তাদের সুরক্ষা দেবেন না।

ওয়াশিংটনে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সাধারণ বোধের বিষয়, তাই না?’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা যদি অর্থ না দেয়, আমি তাদের সুরক্ষা দিতে যাব না। না, আমি তাদের সুরক্ষা দিতে যাব না।’

ট্রাম্প বলেন, তিনি বছরের পর বছর এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আসছেন এবং আগের মেয়াদে (২০১৭-২১) প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ন্যাটো মিত্রদের তিনি এটা জানিয়েছিলেন। ওই প্রচেষ্টার কারণে ৭৫ বছরের পুরোনো ট্রান্স–আটলান্টিক জোটের অন্য সদস্যরা আরও বেশি ব্যয় করতে উৎসাহিত হয়েছেন। তবে এখনো তা যথেষ্ট নয়। তাদের আরও অর্থ ব্যয় করতে হবে।

ন্যাটো জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে একটি পারস্পরিক সহায়তার ধারা রয়েছে। মিত্র ভূখণ্ডে সোভিয়েত আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়েছিল এ জোট।

ট্রাম্পের মন্তব৵ ইউরোপ থেকে এশিয়ার রাজধানীগুলোতে সতর্ক ঘণ্টা বাজাতে পারে। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বাগ্‌বিতণ্ডার পর কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চুক্তি করতে ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে শঙ্কিত অন্য নেতারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্বিগ্ন ইউরোপের নেতারা আরও বেশি নিরাপত্তা ব৵য় বাড়ানোর ও ইউক্রেনের পাশে থাকার পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ‘আমি জানি, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কারও কারও উদ্বেগ থাকতে পারে। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ট্রান্স–আটলান্টিক সম্পর্ক এবং ট্রান্স–আটলান্টিক অংশীদারত্ব আমাদের জোটের ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি এবং ন্যাটোর প্রতি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ট্রাম্প তাঁর প্রত্যাশাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইউরোপে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি কিছু করতে হবে।’

ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো সদস্যরা তাঁর বন্ধু। কিন্তু প্রশ্ন তোলেন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ সংকটের মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করবে কি না। তিনি বলেন, ‘আপনি কি মনে করেন, তারা এসে আমাদের রক্ষা করবে? তাদের তো করার কথা। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই।’

ট্রাম্প বলেন, ব্যয়ের সমস্যাটি সমাধান করা গেলে তিনি ন্যাটোকে ভালো হিসেবে দেখেন। এ নিরাপত্তা জোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের বাণিজ্যে বাধা দিচ্ছে।’

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছিলেন।

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক বৈঠকে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ৯/১১-এর পর আফগানিস্তানে যুদ্ধে ফ্রান্স এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ মার্কিন সেনাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুগত ও বিশ্বস্ত মিত্র’।

১২ দেশের দূতাবাস বন্ধ করা হচ্ছে

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ১২টির বেশি দেশে দূতাবাস বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী দূতাবাসগুলোতে কর্মী সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবাধিকার, শরণার্থী, বৈশ্বিক ফৌজদারি বিচার, নারীবিষয়ক সমস্যা এবং মানব পাচার প্রতিরোধের প্রচেষ্টার মতো ক্ষেত্রে কাজ করা ওয়াশিংটনে অবস্থিত বেশ কয়েকটি বিশেষজ্ঞ ব্যুরোকে একীভূত করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

Continue Reading
Advertisement Enter ad code here

Trending

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আব্দুর রহিম
3450 Danforth Avenue, M1L 1E1 Toronto ON M4C 1M6
Mobile : +1(416) 699 0900, +1(514) 992-2805
© 2024 Amader Kal. All rights reserved.