Connect with us

বাংলাদেশের খবর

ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি প্রকাশের দাবি ছাত্রনেতাদের

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান নিয়ে ছাত্রনেতা, রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।

বৈঠকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা সব চুক্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ড. ইউনূসের সামনে তাঁরা দেশের পরিস্থিতি, ক্যাম্পাসগুলোর পরিস্থিতি, সরকারকে নিয়ে দেশের মানুষ কী ভাবছে, আগামী দিনগুলোতে সরকারের কী করা উচিত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা কী রকম চলছে—সেই ‘গ্রাউন্ড রিয়েলিটি’ (মাঠের বাস্তবতা) তুলে ধরেছেন। প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের কথা শুনেছেন এবং নোট নিয়েছেন।

এদিকে বাসস জানায়, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘খুচরাভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আগে দেখা হয়েছে। আজকে অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। ভালো হলো। তোমাদের কথা শুনতেই মূলত আজকে বসা। তোমরা সরকারের কাছে কী চাচ্ছ, আশাগুলো কী, পরামর্শ আছে কি না—এটি জানতে চাওয়া।’

অধ্যাপক ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘তোমরা রাষ্ট্রের অভিভাবক, তোমাদের কারণেই রাষ্ট্র। এই ভূমিকা ভুলে যেয়ো না। নিজেদের ভূমিকা ভুলে যেয়ো না। অনেকে এখানে আছে, অনেকে নেই। যারা নেই, তারাও রাষ্ট্রের অভিভাবক। তোমাদের দায়িত্ব আছে রাষ্ট্র যেন ঠিক পথে চলে, যেন বিচ্যুত না হয়। এইটুকু মনে রাখলে রাষ্ট্র ঠিক থাকবে। নিজের অভিভাবকত্ব ভুলে যেয়ো না।’

ছাত্র–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, ‘যে ধ্বংসস্তূপ রেখে গেছে, সেখান থেকে বের হওয়া কঠিন। যেদিকে হাত দিই, সেদিকেই ভাঙাচোরা। এই ভাঙাচোরা পরিষ্কার করেই যাচ্ছি। কাজ শুরু করতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।’

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ, মুখপাত্র উমামা ফাতেমাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন ও সদস্য সারজিস আলম। জানা গেছে, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বৈঠকে ছিলেন।

বৈঠকের পর যমুনার ফটকে ছাত্রনেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষা খাত, নতুন সংস্কার প্রস্তাব ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা মাঠের বর্তমান অবস্থা প্রধান উপদেষ্টাকে জানানোর চেষ্টা করেছেন।

হাসনাত বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, ভারত সরকারের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের যেসব গোপন চুক্তি হয়েছিল, সেগুলো যেন প্রকাশ করা হয়। ফেলানী হত্যাসহ সীমান্তে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেগুলোর যেন বিচার নিশ্চিত করা হয় এবং পানির ন্যায্য হিস্যা যেন বাস্তবায়ন করা হয়।’ তিনি বলেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাখার কথা বলেছেন। দেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিয়েছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানকে ইসলামি মৌলবাদের উত্থান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, বিষয়টা আসলে তা নয়। সব শ্রেণি-পেশার ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই অভ্যুত্থান হয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এসব বিশ্বদরবারে আরও বেশি প্রচার করা, অপপ্রচারের জবাব দিতে ‘সেল’ গঠন করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়েছে।

আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফ সোহেল বলেন, ‘হাইকমিশন যেহেতু একটি দেশের সার্বভৌম স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়, ফলে সেখানে যদি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তাহলে একটা স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে প্রতিক্রিয়া থাকা উচিত, সেটাই আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি।’

আবদুল হান্নান মাসউদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে প্রধান উপদেষ্টা জানতে চেয়েছেন, দেশের কৃষক-মজুর, রিকশাশ্রমিক, গার্মেন্টস শ্রমিকেরা আমাদের নিয়ে কী ভাবেন এবং সরকার তাঁদের জন্য কীভাবে কী করতে পারে। আমরা দেশের পরিস্থিতি, ক্যাম্পাসগুলোর পরিস্থিতি এবং সরকারকে নিয়ে দেশের মানুষ কী ভাবছে, সামনের দিনে সরকারের কী করা উচিত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা কী রকম ভাবে চলছে—গ্রাউন্ড রিয়েলিটিটা (মাঠের বাস্তবতা) প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
হান্নান মাসউদ আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেটা এখনো ভাঙেনি বলে আমরা মনে করি। সব রাজনৈতিক দল দেশের স্বার্থে একমত। দেশের স্বার্থে সব ছাত্রসংগঠনও একসঙ্গে কাজ করবে। আমরা সরকারকেও বলেছি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও এই উদ্যোগ নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এই দেশে হিন্দু-মুসলিম সবাই একসঙ্গে বসবাস করে। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, কথা বলছি। আশা করি, সামনে কোনো সংঘাত সৃষ্টি হবে না।’

‘উদ্দেশ্য জাতীয় ঐক্য’
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বুধবার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. ইউনূস। বৃহস্পতিবার ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ঐক্য। ড. ইউনূস সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন।

সাংবাদিকেরা বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, ‘ইদানীং কিছু ঘটনা নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর প্রয়াস আমরা দেখছি। অনেকাংশে দেখছি ভারতের গণমাধ্যম খুব আক্রমণাত্মকভাবে এই কাজগুলো করছে। এটার জন্য জাতীয়ভাবে ঐক্য তৈরি করে আমাদের বলতে হবে, তোমরা আসো, দেখো কী হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় ঐক্যও ধরে রাখা, আমাদের জাতীয় ঐক্য এখানে খুব জরুরি।’

প্রেস সচিব বলেন, সবাই মিলে, ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপতথ্যের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযানে নামতে হবে।

Continue Reading

নির্বাচিত

তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ (বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা) আসনে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা)।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নের চিঠি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয় থেকে রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল বাছেদ এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের দলীয় মনোনয়নপত্র আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রেজাউল করিমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল; সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোয়নপত্র দাখিলের তারিখ ২ মার্চ, ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। ৬ মার্চ থেকে শুরু করে আপিল চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১১ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ১৪ মার্চ ও প্রতীক বরাদ্দ ১৫ মার্চ।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ এই দুটি আসনে বিজয়ী হন। শপথ গ্রহণের আগের দিন তিনি বগুড়া–৬ আসন ছেড়ে দেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে বিএনপি বগুড়া-৬ আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০১৮ সালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

Continue Reading

বাংলাদেশের খবর

সেনাবাহিনীতে রদবদল: নতুন কিউএমজি শাহীনুল, এনডিসিতে ফয়জুর

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি), অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি), ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ও লজিস্টিকস (লগ) এরিয়া জেনারেল অফিসার কমান্ডিংয়ের (জিওসি) দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত রোববার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে নতুন কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোরশেদকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

এদিকে এমআইএসটির বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লগ এরিয়ার জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই পদে থাকা মেজর জেনারেল মো. মোস্তাগাউসুর রহমান খান স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাচ্ছেন।

এর আগে রোববার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে সদর দপ্তরের চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) করা হয়। আর সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি) থেকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

Continue Reading

নির্বাচিত

জামায়াত জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, শক্তিশালী বিরোধী দল হবে: তাহের

জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, বরং শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি।’

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তীতে সরকারের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব সম্ভাব্য প্রধান বিরোধী দলের প্রধান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসছিলেন। একটা কার্টেসি ভিজিট। এটাকে আমরা ওয়েলকাম করি। আমি মনে করি, এই ধরনের নিউ কালচার নিজেদের ভেতরে থাকাটা একটা গুণগত পরিবর্তন, একটি ভালো সূচনা।’

তাহের বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। সরকারও গঠন করেছি। আমরা ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তীতে দুটি দল এবার আলাদাভাবে নির্বাচন করেছি।’

জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি। আমরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছি যে, সকলে মিলে একসঙ্গেই একটা কনস্ট্রাকটিভ ফিউচার আমরা গ্রহণ করতে পারব। একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে পারব। নিজেদের ভেতরে মৌলিক কোনো ঝামেলা হলে আলোচনার ভিত্তিতে যাতে পজিটিভ একটা সমাধান আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবে না। জামায়াতে ইসলামী এখানে কনস্ট্রাকটিভ শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।

তাহের আরও বলেন, ‘বৈঠকে জামায়াত আমির কয়েকটি প্রায়োরিটি বিষয়ে জোর দিয়ে কথা বলেছেন। প্রথম কথা হচ্ছে, ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন, মানুষের সিকিউরিটি ইস্যুটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যেন সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। এরপরে ইকোনমির ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি এবং বিশেষ করে জনগণের যে মৌলিক প্রয়োজনগুলো আছে, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা এসব বিবেকীয় অগ্রাধিকার পদ্ধতিতে যেন সরকার কাজ করে, সে ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘ইটস আ বিগিনিং। আমি মনে করি যে, একটা মৌলিক কোয়ালিটিটিভ চেঞ্জ যাতে আমরা এ দেশে পেতে পারি, সে বিষয়েও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। পজিটিভ যেকোনো বিষয় আছে, আমরা বলেছি, আমরা কো-অপারেট করব এবং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং জনগণের কোনো কল্যাণের বিপরীতে যদি সে রকম কোনো ভূমিকা থাকে, আমরা অবশ্যই সে ব্যাপারে প্রতিবাদ এবং ভূমিকা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’

এর আগে সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে তাঁর বাসায় সাক্ষাৎ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাসায় বিএনপি চেয়ারম্যানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শফিকুর রহমান।

Continue Reading
Advertisement Enter ad code here

Trending

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আব্দুর রহিম
3450 Danforth Avenue, M1L 1E1 Toronto ON M4C 1M6
Mobile : +1(416) 699 0900, +1(514) 992-2805
© 2024 Amader Kal. All rights reserved.