বাংলাদেশের খবর
ভয়েস অব আমেরিকার জরিপ: সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আগের তুলনায় বেশি ‘নিরাপত্তা’ পাচ্ছে
ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ) বাংলার এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা দিতে পারছে। জরিপের ফলাফলে নিরাপত্তা নিয়ে ধারণায় মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।
গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বেশি নিরাপত্তা দিচ্ছে।
মাত্র ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য আগের চেয়ে খারাপ নিরাপত্তা দিচ্ছে। ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, পরিস্থিতি আগের মতোই আছে।
জরিপে এক হাজার উত্তরদাতাকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের তুলনা করতে বলা হয়।
বাংলাদেশের জনতত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরিপের জন্য এক হাজার উত্তরদাতা বাছাই করা হয়। উত্তরদাতাদের মধ্যে সমানসংখ্যার নারী ও পুরুষ ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ মুসলিম।
উত্তরদাতাদের মধ্যে অর্ধেকের একটু বেশির বয়স ৩৪ বছর বয়সের নিচে। উত্তরদাতাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শহুরে মানুষ।
‘পরিস্থিতি অবনতির পর উন্নতি’
বাংলাদেশে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যে প্রতিশোধপ্রবণতা দেখা যায়, তার বড় এক ধাক্কা গিয়ে পড়ে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী বা হিন্দুদের ওপর।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। আবার শুধু সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেও তাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। পঞ্চগড়ে আহমদিয়াদের আবাসস্থলে আক্রমণ হয়েছে, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।’
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা যে বরাবরই ঝুঁকির মধ্যে থাকে, সেদিকে ইঙ্গিত করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি। তিনি বলেন, কোনো সরকার তাদের (সংখ্যালঘু) অধিকার রক্ষার জন্য খুব একটা কিছু করে না।
তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর প্রশাসন, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন সংখ্যালঘুদের উপাসনাস্থল পাহারা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম কমিশনের একজন সদস্য নূর খান। ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ আমরা লক্ষ করেছি, সাধারণ মানুষের তরফ থেকে, রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর তরফ থেকে। এর ফলে দেখা গেছে, পরবর্তী এক মাসের মধ্যেই অবস্থার উন্নতি হয়েছে।’
ভয়েস অব আমেরিকার জরিপের ফলাফলে নিরাপত্তা নিয়ে ধারণায় মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে কিছুটা তফাত লক্ষ করা গেছে।
মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে মাত্র ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের থেকে খারাপ।
কিন্তু ধর্মীয় সংখ্যালঘু উত্তরদাতাদের ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ মনে করেন, তাঁদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে খারাপ করছে।
ঢাকার বাসিন্দা জয়তী সরকার আগে কখনো তাঁর বা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না। কিন্তু এখন তিনি নিশ্চিত নন।

সংখ্যালঘুদের স্বস্তির জায়গা
জরিপে দেখা গেছে, মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের বেশি নিরাপত্তা দিচ্ছে।
অন্যদিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ এই ধারণার সঙ্গে একমত।
অর্থাৎ, সংখ্যালঘুদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করে, আগের তুলনায় তারা বেশি নিরাপত্তা পাচ্ছে।
জয়তী সরকার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকলেও তিনি একটি স্বস্তির জায়গা দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল। তাদের নেতা-কর্মীদের ছত্রচ্ছায়ায় লোকজন হিন্দুদের জমি অল্প দামে কিনেছে বা তাদের বিক্রি করতে বাধ্য করেছে। এরা এখন আর নেই। তাই একটা স্বস্তি বিরাজ করছে।
ঢাকার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা হীরেন পণ্ডিত মনে করছেন, সম্প্রতি গ্রামগঞ্জে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগস্ট-সেপ্টেম্বরের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে তিনিও শঙ্কার মধ্যেই আছেন।
হীরেন পণ্ডিত বলেন, ‘আমাদের গ্রামের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এখনো আমরা নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে থাকি। একটা নিরাপত্তাহীনতা তো আছেই।’
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিয়মিত তাঁর সরকারের উদ্বেগের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, দুই নেতা অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ বাংলাদেশের সবার জন্য মানবাধিকার সুরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে গত ৩১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমি হিন্দু, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বর্বর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই, যারা বাংলাদেশে মব দ্বারা আক্রমণ ও লুটপাটের শিকার হচ্ছে, দেশটি সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।’
তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের খবর ‘অতিরঞ্জিত’ করে প্রচার করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গত ১৭ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ড. ইউনূস। ভাষণে তিনি বলেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুরা সহিংসতার শিকার হয়, কিন্তু সেগুলো ছিল রাজনৈতিক। অল্প যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক। কিন্তু এসব ঘটনাকে ধর্মীয় আবরণ দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলছেন, শেখ হাসিনার ‘নিপীড়নমূলক’ শাসনের প্রতি ভারতের সমর্থনও হিন্দুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে নয়াদিল্লির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত, সব জায়গাতেই সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে চিন্তিত হওয়া। কিন্তু যেসব গোষ্ঠী ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়াতে চায়, তাদের ব্যাপারে বিশেষ করে ভারতের আরও সাবধান হওয়া উচিত।
আস্থার সংকট রয়েছে
বাংলাদেশে যেকোনো অজুহাতে হিন্দুদের নিশানা করার ঘটনা নতুন নয়। মানবাধিকারকর্মী নূর খান যেমন বলছেন, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় দুর্বলের প্রতি সবলের আঘাত তাঁরা বিগত দিনে দেখেছেন এবং এর প্রধান শিকার হয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন নূর খান। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে শঙ্কা ছিল, সে শঙ্কা ক্রমান্বয়ে কেটে উঠছে। একধরনের স্বস্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আসতে শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনই বলা যাবে না, তারা সম্পূর্ণ আস্থাশীল হতে পেরেছে কি না।’
নিরাপত্তা নিয়ে কতটুকু আস্থাশীল হতে পারবেন, তা নিয়ে এখনো উদ্বিগ্ন জয়তী সরকার।
নূর খানের মতে, একটা আশঙ্কা অনেক মানুষের মধ্যেই আছে যে আগামী তিন মাস পর চিত্র কী হবে। অর্থাৎ, আস্থার সংকট রয়েছে।
নূর খান বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থার জায়গাটা আরও মজবুত হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের কার্যক্রমের ওপর, সরকারের পদক্ষেপের ওপর।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, সংখ্যালঘুদের তাঁদের অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জনসমক্ষে আশ্বস্ত করতে সরকার ও ছাত্রনেতাদের আরও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
নির্বাচিত
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ (বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা) আসনে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা)।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নের চিঠি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয় থেকে রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল বাছেদ এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের দলীয় মনোনয়নপত্র আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রেজাউল করিমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল; সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোয়নপত্র দাখিলের তারিখ ২ মার্চ, ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। ৬ মার্চ থেকে শুরু করে আপিল চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১১ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ১৪ মার্চ ও প্রতীক বরাদ্দ ১৫ মার্চ।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ এই দুটি আসনে বিজয়ী হন। শপথ গ্রহণের আগের দিন তিনি বগুড়া–৬ আসন ছেড়ে দেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে বিএনপি বগুড়া-৬ আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০১৮ সালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
বাংলাদেশের খবর
সেনাবাহিনীতে রদবদল: নতুন কিউএমজি শাহীনুল, এনডিসিতে ফয়জুর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি), অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি), ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ও লজিস্টিকস (লগ) এরিয়া জেনারেল অফিসার কমান্ডিংয়ের (জিওসি) দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত রোববার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে নতুন কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোরশেদকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।
এদিকে এমআইএসটির বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লগ এরিয়ার জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই পদে থাকা মেজর জেনারেল মো. মোস্তাগাউসুর রহমান খান স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাচ্ছেন।
এর আগে রোববার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে সদর দপ্তরের চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) করা হয়। আর সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি) থেকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
নির্বাচিত
জামায়াত জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, শক্তিশালী বিরোধী দল হবে: তাহের
জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, বরং শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি।’
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তীতে সরকারের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব সম্ভাব্য প্রধান বিরোধী দলের প্রধান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসছিলেন। একটা কার্টেসি ভিজিট। এটাকে আমরা ওয়েলকাম করি। আমি মনে করি, এই ধরনের নিউ কালচার নিজেদের ভেতরে থাকাটা একটা গুণগত পরিবর্তন, একটি ভালো সূচনা।’
তাহের বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। সরকারও গঠন করেছি। আমরা ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তীতে দুটি দল এবার আলাদাভাবে নির্বাচন করেছি।’
জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি। আমরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছি যে, সকলে মিলে একসঙ্গেই একটা কনস্ট্রাকটিভ ফিউচার আমরা গ্রহণ করতে পারব। একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে পারব। নিজেদের ভেতরে মৌলিক কোনো ঝামেলা হলে আলোচনার ভিত্তিতে যাতে পজিটিভ একটা সমাধান আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবে না। জামায়াতে ইসলামী এখানে কনস্ট্রাকটিভ শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।
তাহের আরও বলেন, ‘বৈঠকে জামায়াত আমির কয়েকটি প্রায়োরিটি বিষয়ে জোর দিয়ে কথা বলেছেন। প্রথম কথা হচ্ছে, ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন, মানুষের সিকিউরিটি ইস্যুটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যেন সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। এরপরে ইকোনমির ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি এবং বিশেষ করে জনগণের যে মৌলিক প্রয়োজনগুলো আছে, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা এসব বিবেকীয় অগ্রাধিকার পদ্ধতিতে যেন সরকার কাজ করে, সে ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘ইটস আ বিগিনিং। আমি মনে করি যে, একটা মৌলিক কোয়ালিটিটিভ চেঞ্জ যাতে আমরা এ দেশে পেতে পারি, সে বিষয়েও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। পজিটিভ যেকোনো বিষয় আছে, আমরা বলেছি, আমরা কো-অপারেট করব এবং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং জনগণের কোনো কল্যাণের বিপরীতে যদি সে রকম কোনো ভূমিকা থাকে, আমরা অবশ্যই সে ব্যাপারে প্রতিবাদ এবং ভূমিকা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’
এর আগে সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে তাঁর বাসায় সাক্ষাৎ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাসায় বিএনপি চেয়ারম্যানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শফিকুর রহমান।
-
কানাডার খবর4 days agoআসন্ন উপনির্বাচনে এমপিপি প্রার্থী আহসানুল হাফিজ এর প্রার্থিতা ঘোষণা
-
বাংলাদেশের খবর6 days agoসেনাবাহিনীতে রদবদল: নতুন কিউএমজি শাহীনুল, এনডিসিতে ফয়জুর
-
টরন্টোর খবর2 weeks agoটরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
-
নির্বাচিত6 days agoতারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম
-
নির্বাচিত2 weeks ago
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাধারণ মানুষের যাওয়া কি অপরাধ?
-
আন্তর্জাতিক12 months ago
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি : ন্যাটো সদস্যরা যথেষ্ট অর্থ না দিলে সুরক্ষা দেবেন না ট্রাম্প
-
বাংলাদেশের খবর2 weeks ago
যমুনাই হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন!
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
সবার সহযোগিতা না পেলে সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারতাম না: সিইসি
