Connect with us

বাংলাদেশের খবর

সরকারি চাকরি : আন্তক্যাডার দ্বন্দ্ব থামছে না

পদ-পদোন্নতিসহ চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থামছে না। প্রায় দুই মাস থেমে থাকার পর এই আন্তক্যাডার দ্বন্দ্ব ঘিরে আন্দোলন আবারও মাঠে গড়িয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকাসহ সারা দেশে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করছে প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে থাকা ২৫টি ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ।

‘প্রশাসন ক্যাডার কর্তৃক বৈষম্যমূলকভাবে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদ ও আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে’ এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মবিরতির অংশ হিসেবে রাস্তায় নেমে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন ২৫ ক্যাডারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকও যোগ দেন এই অবস্থান কর্মসূচিতে। দাবি আদায়ে এমন পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে এমন আন্দোলনে সাধারণত দেখা যায় না।

কর্মবিরতির ফলে স্বাভাবিক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে পরিষদভুক্ত কোনো কোনো ক্যাডারের কর্মকর্তারা এদিন কাজও করেছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য জরুরি সেবা কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতার বাইরে ছিল।

আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বলা হয়, পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ২৫টি ক্যাডারের সদস্যরা গতকাল সারা দেশের বিভিন্ন দপ্তরে এই কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁরা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে কালো ব্যাজ পরে ব্যানারসহ অবস্থান করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট এ আদেশ (সাময়িক বরখাস্তের আদেশ) প্রত্যাহার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আগে থেকে সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু কয়েক মাস ধরে বিশেষ করে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এক পক্ষে আছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। অন্য পক্ষে আছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা। কয়েক মাস ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলেও থামানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই। এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে–বিপক্ষে নিজেদের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। এর জের ধরে বিভিন্ন ক্যাডারের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও এই পরিস্থিতি থামছে না।

২৫টি ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ গত শনিবার জানিয়েছিল, সম্প্রতি ফেসবুকে লেখালেখির মতো তুচ্ছ কারণে ২৫ ক্যাডারের ১৩ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৈষম্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন ক্যাডার ২৫ ক্যাডারের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতি উল্লেখ করে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয় পরিষদ।

কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি

কর্মকর্তাদের সংখ্যার দিক দিয়ে অন্যতম বড় ক্যাডার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমে তাদের কাজগুলো দেখভাল করা হয়। গতকাল বেলা ১১টার দিকে এই অধিদপ্তরের প্রাঙ্গণে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা অবস্থান নেন। এতে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানও অংশ নেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ২৫ ক্যাডারের কিছু বিষয় নিয়ে সম্মিলিতভাবে এখানে দাঁড়িয়েছেন। পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডার অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছে।

শিক্ষা ক্যাডারের একজন সদস্য হিসেবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, তাঁরা বেশ কিছু বৈষম্যের শিকার, আন্তক্যাডার বৈষম্য অন্যতম। ক্যাডার সদস্যদের অনেকেই মামলা বা হয়রানির শিকার, এগুলো নিয়ে যেন একটি সুন্দর সমাধান আসে, সে জন্য এই কর্মবিরতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের’ সভাপতি এবং মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ।

বিভিন্ন কলেজেও এই কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। তবে কোনো কোনো কলেজে পরীক্ষা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রধান কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তারা।

কোথাও কোথাও কর্মবিরতির মধ্যে কর্মকর্তাদের কাজ করতে দেখা গেছে। যেমন সচিবালয়ে তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করেছেন। এ বিষয়ে তথ্য ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘বাস্তবতার কারণে’ সচিবালয়ের ভেতরে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করেননি।


সংকটের পেছনে সুযোগ ও পদোন্নতির বঞ্চনা

বর্তমানে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ২৬টি ক্যাডারে নিয়োগ হয়। চাকরিতে কাজের ধরনও যেমন আলাদা, তেমনি পদ-পদোন্নতি এবং সুযোগ-সুবিধাও আলাদা।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্য ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিযোগ, প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, করসহ হাতে গোনা কয়েকটি ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি এবং সুযোগ–সুবিধায় এগিয়ে থাকেন। কিন্তু অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতিতে পিছিয়ে থাকেন। বিশেষ করে পদোন্নতিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা বেশি পিছিয়ে।

এসব নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশ দিয়েছে, তাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য পৃথক দুটি পিএসসির কথা রয়েছে।

২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে ধীরে ধীরে মূলধারা থেকে বের করার প্রয়াস রয়েছে।

বর্তমানে উপসচিব পদে প্রশাসন ক্যাডার থেকে ৭৫ শতাংশ এবং অন্য ক্যাডার থেকে ২৫ শতাংশ পদোন্নতি হয়। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত প্রশাসনিক সার্ভিসের (বর্তমান প্রশাসন ক্যাডার) ৭৫ শতাংশ কোটা কমিয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলেছে। বাকি ৫০ শতাংশ পদ অন্যান্য সার্ভিসের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা চান এই কোটা উঠিয়ে উন্মুক্ত পরীক্ষায় সব ক্যাডার থেকে উপসচিব করা হোক। তবে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চাকরিতে পছন্দক্রম দিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী ক্যাডার নির্ধারণ হয়। সেখানে মাঝপথে এসে প্রশাসনের পদে অন্যদের প্রবেশ যৌক্তিক হবে না।

তথ্য ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মূলত পদোন্নতি এবং সুযোগ–সুবিধার বৈষম্য থেকেই আন্তক্যাডারের দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। সে ক্ষেত্রে যদি প্রতিটি ক্যাডারের পদোন্নতি ও সুযোগ–সুবিধায় সমতা আনা হয়, তাহলে এই সমস্যা এমনিতেই অনেকাংশে কেটে যাবে।

Continue Reading

নির্বাচিত

তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ (বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা) আসনে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা)।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নের চিঠি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয় থেকে রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল বাছেদ এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের দলীয় মনোনয়নপত্র আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রেজাউল করিমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল; সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোয়নপত্র দাখিলের তারিখ ২ মার্চ, ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। ৬ মার্চ থেকে শুরু করে আপিল চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১১ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ১৪ মার্চ ও প্রতীক বরাদ্দ ১৫ মার্চ।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ এই দুটি আসনে বিজয়ী হন। শপথ গ্রহণের আগের দিন তিনি বগুড়া–৬ আসন ছেড়ে দেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে বিএনপি বগুড়া-৬ আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০১৮ সালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

Continue Reading

বাংলাদেশের খবর

সেনাবাহিনীতে রদবদল: নতুন কিউএমজি শাহীনুল, এনডিসিতে ফয়জুর

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি), অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি), ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ও লজিস্টিকস (লগ) এরিয়া জেনারেল অফিসার কমান্ডিংয়ের (জিওসি) দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত রোববার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে নতুন কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোরশেদকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

এদিকে এমআইএসটির বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লগ এরিয়ার জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই পদে থাকা মেজর জেনারেল মো. মোস্তাগাউসুর রহমান খান স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাচ্ছেন।

এর আগে রোববার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে সদর দপ্তরের চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) করা হয়। আর সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি) থেকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

Continue Reading

নির্বাচিত

জামায়াত জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, শক্তিশালী বিরোধী দল হবে: তাহের

জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, বরং শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি।’

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তীতে সরকারের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব সম্ভাব্য প্রধান বিরোধী দলের প্রধান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসছিলেন। একটা কার্টেসি ভিজিট। এটাকে আমরা ওয়েলকাম করি। আমি মনে করি, এই ধরনের নিউ কালচার নিজেদের ভেতরে থাকাটা একটা গুণগত পরিবর্তন, একটি ভালো সূচনা।’

তাহের বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। সরকারও গঠন করেছি। আমরা ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তীতে দুটি দল এবার আলাদাভাবে নির্বাচন করেছি।’

জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি। আমরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছি যে, সকলে মিলে একসঙ্গেই একটা কনস্ট্রাকটিভ ফিউচার আমরা গ্রহণ করতে পারব। একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে পারব। নিজেদের ভেতরে মৌলিক কোনো ঝামেলা হলে আলোচনার ভিত্তিতে যাতে পজিটিভ একটা সমাধান আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবে না। জামায়াতে ইসলামী এখানে কনস্ট্রাকটিভ শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।

তাহের আরও বলেন, ‘বৈঠকে জামায়াত আমির কয়েকটি প্রায়োরিটি বিষয়ে জোর দিয়ে কথা বলেছেন। প্রথম কথা হচ্ছে, ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন, মানুষের সিকিউরিটি ইস্যুটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যেন সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। এরপরে ইকোনমির ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি এবং বিশেষ করে জনগণের যে মৌলিক প্রয়োজনগুলো আছে, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা এসব বিবেকীয় অগ্রাধিকার পদ্ধতিতে যেন সরকার কাজ করে, সে ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘ইটস আ বিগিনিং। আমি মনে করি যে, একটা মৌলিক কোয়ালিটিটিভ চেঞ্জ যাতে আমরা এ দেশে পেতে পারি, সে বিষয়েও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। পজিটিভ যেকোনো বিষয় আছে, আমরা বলেছি, আমরা কো-অপারেট করব এবং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং জনগণের কোনো কল্যাণের বিপরীতে যদি সে রকম কোনো ভূমিকা থাকে, আমরা অবশ্যই সে ব্যাপারে প্রতিবাদ এবং ভূমিকা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’

এর আগে সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে তাঁর বাসায় সাক্ষাৎ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাসায় বিএনপি চেয়ারম্যানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শফিকুর রহমান।

Continue Reading
Advertisement Enter ad code here

Trending

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আব্দুর রহিম
3450 Danforth Avenue, M1L 1E1 Toronto ON M4C 1M6
Mobile : +1(416) 699 0900, +1(514) 992-2805
© 2024 Amader Kal. All rights reserved.