বাংলাদেশের খবর
আহতরা বিনা মূল্যে চিকিৎসা পাবেন, কর্মসংস্থানও হবে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আহত ব্যক্তিরা দেশের সব সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে সারা জীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা পাবেন। চিকিৎসায় তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন। আর কারও যদি দেশে চিকিৎসা সম্ভব না হয় এবং বিদেশে চিকিৎসার জন্য বিজ্ঞানসম্মত সুপারিশ করা হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থা করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ সহকারী। বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়। সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান। তিনি এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ছিলেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ছয় উপদেষ্টা হলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
এর আগে গতকাল বুধবার আহত ব্যক্তিদের দেখতে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সবার সঙ্গে দেখা করেননি অভিযোগ করে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় তাঁর পথ আটকে বিক্ষোভ করেন আহত ব্যক্তিরা। পরে তাঁরা রাস্তায় নামেন। একপর্যায়ে পঙ্গু হাসপাতাল ও পাশের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ওই সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের কারও এক পা নেই, কেউ হুইলচেয়ারে, আবার কারও চোখে ব্যান্ডেজ ছিল। তাঁরা একপর্যায়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে হাসপাতালে ফিরে যেতে চার উপদেষ্টাকে সেখানে উপস্থিত হওয়ার শর্ত দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ সহকারী গভীর রাতে সেখানে যান। তাঁদের কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর আহত ব্যক্তিরা রাত সোয়া তিনটার দিকে হাসপাতালে ফিরে যান।
তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে আজ বেলা দুইটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বেশ কিছুসংখ্যক আহত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ এসেছিলেন ক্রাচে ভর দিয়ে। কারও চোখে ব্যান্ডেজ বা হাতে লাগানো নানা যন্ত্র। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাঁরা নানা ক্ষত নিয়ে এসেছেন। তাঁদের কেউ কেউ সরাসরি হাসপাতাল থেকে এসেছেন।
সভা শুরু হওয়ার আগে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পঙ্গু হাসপাতাল ও চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের বাইরে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহত ব্যক্তিরাও বৈঠকে যোগ দেন। মূলত এ নিয়েই ক্ষুব্ধ হন পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এলাকায় বিক্ষোভ করা আহত ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে এক পক্ষ সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে বাইরে যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম তাঁদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পরে ছয় উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন আহত ব্যক্তিরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তগুলো জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক সায়েদুর রহমান।
যেসব সিদ্ধান্ত হলো
প্রত্যেক আহত ব্যক্তির জন্য পরিচয়পত্র থাকবে, যেটি তাঁর সুবিধা নিশ্চিত করবে। আহত ব্যক্তিরা দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সারা জীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা পাবেন। তাঁদের জন্য সারা দেশের সব সরকারি হাসপাতালে সুনির্দিষ্ট শয্যা থাকবে। ঢাকার হাসপাতালগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে, যাতে দেখা যাবে কোন হাসপাতালে কয়টি শয্যা খালি আছে।
যেসব বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানেও বিনা মূল্যে চিকিৎসা অথবা চিকিৎসা ব্যয়ের আংশিক সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া ইতিমধ্যে চিকিৎসার জন্য আহত ব্যক্তিরা যে পরিমাণ টাকা খরচ করেছেন, যাচাই করে সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে।
আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, সেগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের সম্মানের সঙ্গে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
যাঁরা পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমবেদনা এবং সহানুভূতি জানিয়ে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামর্থ্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রশিক্ষিত করে আহত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া যাঁরা পঙ্গু হয়ে গেছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি অথবা কোনো যন্ত্র লাগানোর প্রয়োজন হলে তা লাগানো হবে। প্রয়োজনে রোবোটিক চিকিৎসা এবং অত্যাধুনিক যন্ত্র প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করার কথাও আলোচনায় এসেছে। আর টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে ট্রমার মধ্যে পড়া আহত ব্যক্তিদের মানসিক সহায়তার আওতায় আনা হবে। আহত ব্যক্তিদের জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র (সাপোর্ট সেন্টার) থাকবে এবং সেখান থেকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কোনো কোনোটি হয়তো তিন দিন, কোনো কোনোটি পাঁচ দিন, কোনো কোনোটি ১৫ দিনের মধ্যে করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই সব কটি দৃশ্যমান হবে। যেগুলো স্বল্পমেয়াদি, সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে হবে; যেগুলো দীর্ঘমেয়াদি, সেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এসব বিষয়ে কোনো গাফিলতি একেবারেই সহ্য করা হবে না। এসব সিদ্ধান্ত আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত আকারে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। তবে আহত ব্যক্তিদের কেউ কেউ তখনই লিখিতভাবে এসব জানানোর দাবি করতে থাকেন।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন যা করছে
গত ১২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। আন্দোলনে শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবার মতো কাজের জন্য এই ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছিল। শহীদ পরিবারকে পাঁচ লাখ ও আহতদের এক লাখ টাকা করে অনুদান দিচ্ছে এই ফাউন্ডেশন। এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক শহীদ পরিবার এবং পাঁচ শতাধিক আহত ব্যক্তিকে গড়ে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক এই সহায়তা কার্যক্রম শেষ বলে আশা করছেন ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন সারজিস আলম। আর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
জরুরি আর্থিক সহায়তা শুরু করার জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর এই ফাউন্ডেশনে ১০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন তিনটি উইংয়ে কাজ করছে। একটি উইং ‘শহীদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ’ শিরোনামে শহীদ পরিবারকে সহায়তার কাজ করছে, দ্বিতীয়টি কাজ করছে আহত ব্যক্তিদের নিয়ে আর আরেকটি জরুরি বা কুইক রেসপন্স টিম।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোলাবরেট করছি। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন একটা সেল খোলা হয়েছে। সেটার সঙ্গেও আমাদের একটা কোলাবরেশন আছে। সেলের পক্ষ থেকে আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, গুরুতর আহত ব্যক্তিদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।’
সারজিস আলম বলেন, তাঁদের জায়গা থেকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা অবশ্যই আছে। প্রত্যেক শহীদ পরিবার ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের যেকোনো একজনের চাকরির ব্যবস্থা করার চিন্তা আছে। যাঁরা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বা অঙ্গ হারিয়েছেন, সেই অঙ্গ প্রতিস্থাপনে কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও চিন্তা আছে। এ ছাড়া সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
নির্বাচিত
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ (বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা) আসনে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা)।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নের চিঠি আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয় থেকে রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল বাছেদ এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের দলীয় মনোনয়নপত্র আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রেজাউল করিমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল; সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোয়নপত্র দাখিলের তারিখ ২ মার্চ, ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। ৬ মার্চ থেকে শুরু করে আপিল চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১১ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ১৪ মার্চ ও প্রতীক বরাদ্দ ১৫ মার্চ।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ এই দুটি আসনে বিজয়ী হন। শপথ গ্রহণের আগের দিন তিনি বগুড়া–৬ আসন ছেড়ে দেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে বিএনপি বগুড়া-৬ আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০১৮ সালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
বাংলাদেশের খবর
সেনাবাহিনীতে রদবদল: নতুন কিউএমজি শাহীনুল, এনডিসিতে ফয়জুর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি), অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি), ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ও লজিস্টিকস (লগ) এরিয়া জেনারেল অফিসার কমান্ডিংয়ের (জিওসি) দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সেনা সদর থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত রোববার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে নতুন কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল হোসাইন আল মোরশেদকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানকে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।
এদিকে এমআইএসটির বর্তমান কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লগ এরিয়ার জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই পদে থাকা মেজর জেনারেল মো. মোস্তাগাউসুর রহমান খান স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাচ্ছেন।
এর আগে রোববার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে সদর দপ্তরের চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) করা হয়। আর সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি) থেকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
নির্বাচিত
জামায়াত জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, শক্তিশালী বিরোধী দল হবে: তাহের
জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, বরং শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি।’
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তীতে সরকারের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেব সম্ভাব্য প্রধান বিরোধী দলের প্রধান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসছিলেন। একটা কার্টেসি ভিজিট। এটাকে আমরা ওয়েলকাম করি। আমি মনে করি, এই ধরনের নিউ কালচার নিজেদের ভেতরে থাকাটা একটা গুণগত পরিবর্তন, একটি ভালো সূচনা।’
তাহের বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। সরকারও গঠন করেছি। আমরা ফ্যাসিবাদের পতন-পরবর্তীতে দুটি দল এবার আলাদাভাবে নির্বাচন করেছি।’
জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী দল সমন্বিতভাবেই দেশের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করছি। আমরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছি যে, সকলে মিলে একসঙ্গেই একটা কনস্ট্রাকটিভ ফিউচার আমরা গ্রহণ করতে পারব। একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা গঠন করতে পারব। নিজেদের ভেতরে মৌলিক কোনো ঝামেলা হলে আলোচনার ভিত্তিতে যাতে পজিটিভ একটা সমাধান আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণ করবে না। জামায়াতে ইসলামী এখানে কনস্ট্রাকটিভ শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।
তাহের আরও বলেন, ‘বৈঠকে জামায়াত আমির কয়েকটি প্রায়োরিটি বিষয়ে জোর দিয়ে কথা বলেছেন। প্রথম কথা হচ্ছে, ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন, মানুষের সিকিউরিটি ইস্যুটা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যেন সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। এরপরে ইকোনমির ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি এবং বিশেষ করে জনগণের যে মৌলিক প্রয়োজনগুলো আছে, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা এসব বিবেকীয় অগ্রাধিকার পদ্ধতিতে যেন সরকার কাজ করে, সে ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘ইটস আ বিগিনিং। আমি মনে করি যে, একটা মৌলিক কোয়ালিটিটিভ চেঞ্জ যাতে আমরা এ দেশে পেতে পারি, সে বিষয়েও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। পজিটিভ যেকোনো বিষয় আছে, আমরা বলেছি, আমরা কো-অপারেট করব এবং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং জনগণের কোনো কল্যাণের বিপরীতে যদি সে রকম কোনো ভূমিকা থাকে, আমরা অবশ্যই সে ব্যাপারে প্রতিবাদ এবং ভূমিকা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।’
এর আগে সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে তাঁর বাসায় সাক্ষাৎ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাসায় বিএনপি চেয়ারম্যানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শফিকুর রহমান।
-
কানাডার খবর2 days agoআসন্ন উপনির্বাচনে এমপিপি প্রার্থী আহসানুল হাফিজ এর প্রার্থিতা ঘোষণা
-
বাংলাদেশের খবর5 days agoসেনাবাহিনীতে রদবদল: নতুন কিউএমজি শাহীনুল, এনডিসিতে ফয়জুর
-
আন্তর্জাতিক12 months ago
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি : ন্যাটো সদস্যরা যথেষ্ট অর্থ না দিলে সুরক্ষা দেবেন না ট্রাম্প
-
নির্বাচিত2 weeks ago
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাধারণ মানুষের যাওয়া কি অপরাধ?
-
নির্বাচিত4 days agoতারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম
-
টরন্টোর খবর1 week agoটরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
সবার সহযোগিতা না পেলে সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারতাম না: সিইসি
-
অর্থনীতি1 year ago
ফার্মাকেয়ার চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বললেন ট্রুডো
