আন্তর্জাতিক
ভারত-চীন–পাকিস্তানসহ ১৪ দেশের শিক্ষার্থীদের দুঃসংবাদ দিল কানাডা
বিশ্বের ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের বিশেষ ভিসা কর্মসূচি ফাস্ট ট্র্যাক স্টাডি ভিসা (স্টুডেন্ট ডিরেক্ট স্ট্রিম) প্রোগ্রাম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আবাসন ও সম্পদের সংকটের কথা জানিয়ে দেশটি এ কথা জানিয়েছে। তবে সব দেশের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাসী বলেও দেশটি জানিয়েছে।
১৪টি দেশের মধ্যে অন্যতম দেশগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিল, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, মরক্কো, পেরু, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। এসব দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভিসা কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে কানাডা। ২০১৮ সালে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের সহজ ও দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য স্টুডেন্ট ডিরেক্ট স্ট্রিম ভিসা (এসডিএস) ভিসা প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল।
কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক সংস্থা (আইআরসিসি) গত শুক্রবার জানিয়েছে, এসডিএস ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করা হলো। আবাসন ও সম্পদের সংকটের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সব দেশের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাসী বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এসডিএস ভিসা বন্ধের প্রভাব পড়তে পারে কানাডায় পড়তে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর। স্টুডেন্ট ডিরেক্ট স্ট্রিমের মাধ্যমে ভিসায় আবেদন করার ক্ষেত্রে সময় কম লাগত এবং অ্যাপ্রুভাল রেটও বেশি থাকত।
এই স্কিমের আওতায় ৮ নভেম্বর বেলা দুইটা পর্যন্ত প্রাপ্ত আবেদনগুলো গ্রহণ করা হবে। এরপর সব আবেদন নিয়মিত স্টাডি পারমিটের অধীন প্রক্রিয়া করা হবে।
এর আগে গত ১ নভেম্বর থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের (পিজিডব্লিউপি) সংশোধিত নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক সংস্থা (আইআরসিসি)। এ নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিশেষ করে কলেজ স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যেসব শিক্ষার্থী আগামী ১ নভেম্বরের আগে স্টাডি পারমিটের জন্য আবেদন করেছেন বা পেয়েছেন, তাঁরা বিদ্যমান নিয়মের অধীনে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য হবেন। আর যাঁরা এই সময়ের সময়ে বা তার পরে আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নতুন এই নিয়মে কলেজ ও নন-ডিগ্রি প্রোগ্রাম থেকে স্নাতকদের জন্য সুযোগ থাকবে। আইআরসিসি নিশ্চিত করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রের ওপর ভিত্তি করে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তিন বছর পর্যন্ত পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য থাকবেন। আর কলেজ স্নাতকদের জন্য কিছু প্রোগ্রামে নতুন নিয়মের অধীনে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
এদিকে গত সেপ্টেম্বর মাসেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছিলেন, এই বছর থেকে স্টুডেন্ট পারমিট ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আরও ১০ শতাংশ ভিসার হার কমবে।
কলেজ স্নাতকদের পড়াশোনার নতুন ক্ষেত্র
১ নভেম্বর থেকে কলেজ প্রোগ্রামের স্নাতকদের অবশ্যই পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্যতা অর্জনের জন্য নির্ধারিত বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করতে হবে। আইআরসিসি নির্ধারিত ৯৬৬টি প্রোগ্রাম তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে কৃষি ও কৃষিখাদ্য; স্বাস্থ্যসেবা; সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স (স্টেম); স্কিলড ট্রেড এবং ট্রান্সপোর্টেশন-এই পাঁচ বিষয় তালিকাভুক্ত প্রোগ্রামগুলোকে কভার করবে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে ঐতিহ্যগতভাবে জনপ্রিয় ক্ষেত্র যেমন ট্যুরিজম, হসপিটালিটি ও বিজনেস স্টাডিজ বিষয়গুলো এই তালিকায় রাখা হয়নি। এতে কানাডায় কাজের সুযোগ খুঁজছেন, এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব
পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্যতা সীমিত করার সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থী, যারা এখন পড়াশোনার বিষয়গত কারণে অযোগ্য বলে বিবেচিত, তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে আছে।
ওল্ডস কলেজের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর কারেন ড্যান্সি লিংকডইনে বলেন, তালিকায় হসপিটালিটি বিশেষভাবে অনুপস্থিত। এটি গ্রামীণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ স্থানীয়দের জন্য বিপর্যয়কর হবে। বিশেষ করে সেই সব বিদেশি শিক্ষার্থী, যাঁরা এই কলেজে পড়াশোনা করছেন।
পিজিডব্লিউপির জন্য ভাষাগত যোগ্যতা
পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্দিষ্ট ভাষার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের অনুমোদিত ভাষা পরীক্ষার মাধ্যমে ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় তাঁদের দক্ষতার প্রমাণ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের জন্য ইংরেজিতে কানাডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ বেঞ্চমার্কস (সিএলবি) ৭ বা ফরাসি ভাষায় তার সমমান নিভেক্স দ্য কমপিটেন্স লিঙ্গুইস্টিকস কানাডিয়ান (এনসিএলসি) স্কোর ৭ থাকতে হবে। কলেজ স্নাতকদের চারটি ভাষার ক্ষেত্রে (পড়া, লেখা, শোনা এবং কথা বলা) অবশ্যই সিএলবি স্কোর ৫ বা এনসিএলসি স্কোর ৫-এর যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
প্রভাব কতটা পড়বে
নতুন এই নিয়মে পড়াশোনা শেষে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্য টরন্টো স্টারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ১ লাখ ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ প্রোগ্রামের স্নাতকদের ৬৪ শতাংশ এই সুযোগ পেয়েছেন। শুধু বিজনেস স্টাডিজের ৪২ শতাংশ স্নাতক এই সুযোগ পেয়েছেন ৪২ শতাংশ আর স্টেমের সবগুলো ক্ষেত্র থেকে এই সুযোগ পেছেন ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবার নতুন নিয়মের আওতায় এই স্নাতকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষ করে যাঁরা বিজনেস স্টাডিজ ও তালিকার বাইরে থাকা ক্ষেত্রগুলোতে পড়াশোনা করছেন, তাঁরা ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন না।
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক আদালতে দখলদার ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়
নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল ২২ জুন নেদারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) বাংলাদেশের দখলদার সরকারের তথাকথিত প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে রোম সংবিধির ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ দায়ের করেন কানাডা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমডি হাসান। তিনি গত ৫ অগাস্ট থেকে ১৮ অগাস্ট ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে নিহত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর হয়ে যাওয়া নির্মম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, এই মর্মে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতঃ একটি অভিযোগ দায়ের করেন। প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুস সহ মোট ৬৪ জনের বিরুদ্ধে উপরে উল্লেখিত দুইটি অপরাধ হয়েছে উল্লেখ করে অভিযোগ দাখিল করেন। জনাব হাসানের আইনজীবি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার সলিসিটর নিঝুম মজুমদার।
ইউনুস ছাড়াও এই ৬৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে আসিফ নজরুল, লে জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব) শাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দা রেজওয়ানা, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সহ ইউনুসের উপদেষ্টা মন্ডলীর সকল সদস্য এবং কথিত ছাত্র বৈষম্য জোটের মোহাম্মদ হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম, আবু বকর মজুমদার সহ মোট ৬৪ জনের বিরুদ্ধে উল্লেখ্য অভিযোগ আনা হয়।
এই অভিযোগে মূল অভিযোগপত্রের সাথে প্রায় ১৭০০ পৃষ্ঠার তথ্য-নথি-পত্র প্রমাণ স্বরূপ যুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য যে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নাম করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ইউনুস সরকার গত ৫ ই অগাস্ট থেকে ১৭ ই অগাস্ট(২০২৪) পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর নির্ম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মত আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠিত করে যেখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা, ধর্ষন, দেশ ত্যাগে বাধ্য এবং লক্ষ লক্ষ ঘরবাড়ি, সম্পদ ইত্যাদি বিনষ্ট করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দাখিলকৃত এই অভিযোগের মধ্যে জনাব এম ডি হাসান কানাডাপ্রবাসী প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করলেন। তবে এই ধরনের আরো ১৫ হাজার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করবার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে খুব শিঘ্রীই ক্ষতিগ্রস্থ সংঘুব্ধ ব্যাক্তিরা একে একে অভিযোগ দায়ের করবেন।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ নিয়ে ফলকার টুর্ক : সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলাম, ফলশ্রুতিতে পরিবর্তন দেখলাম
বাংলাদেশে জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে দমন–পীড়নে অংশ না নিতে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করার পর সরকার পরিবর্তন হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্ক এ কথা বলেছেন। বিবিসির ওয়েবসাইটে বুধবার হার্ডটক অনুষ্ঠানের এই পর্ব প্রকাশ করা হয়। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্কের সঙ্গে কথা বলেন বিবিসির উপস্থাপক স্টিফেন সাকার।
অনুষ্ঠানে গাজা, সুদান, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে স্টিফেন সাকার ফলকার টুর্ককে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মূল্যবোধ মেনে এসব পরিস্থিতি সমাধানে জাতিসংঘকে ক্ষমতাহীন মনে হচ্ছে। এর জবাব দিতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ফলকার টুর্ক।
ফলকার টুর্ক বলেন, ‘আমি আপনাকে উদাহরণ দিচ্ছি, যেখানে এটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। আমি গত বছরের বাংলাদেশের উদাহরণ দিচ্ছি। আপনি জানেন জুলাই–আগস্টে সেখানে ছাত্রদের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।’ বাংলাদেশে তখন শেখ হাসিনার সরকার আমলে ছাত্রদের আন্দোলন দমনে ব্যাপক নিপীড়ন চলছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য বড় আশার জায়গা ছিল আসলে আমরা কী বলি, আমি কী বলি, আমরা কী করতে পারি এবং আমরা ওই পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করি।
আমরা প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করি, যদি তারা এতে জড়িত হয়, তার অর্থ দাঁড়াবে তারা হয়ত আর শান্তিরক্ষী পাঠানোর দেশ থাকতে পারবে না। ফলশ্রুতিতে আমরা পরিবর্তন দেখলাম।’ ফলকার টুর্ক বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলেন, তিনি আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে বললেন, আপনি কি একটি তথ্যানুসন্ধানী দল পাঠাতে পারেন, পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন এবং সেখানে যা ঘটছি, তা তদন্ত করতে বললেন। আমরা এগুলোই করেছিলাম। এবং এটা কার্যত সাহায্য করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি গত বছর বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। আমরা একটি অবস্থান নেওয়ায়, আমরা কথা বলায় এবং তাদেরকে সহযোগিতা করায় ছাত্ররা আমাদের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ ছিল।’
সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ফলকার টুর্ক বলেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা হবে। কারণ, ইউএসএআইডি এবং বিদেশি সহায়তা বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, সিরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশের দেশগুলোতে থাকা সহিংসতার শিকার মানুষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের ক্ষেত্রে এটা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধ করতে তাঁরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফিলিস্তিনের গাজার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, সেখানে যা ঘটছে, তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।
আন্তর্জাতিক
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি : ন্যাটো সদস্যরা যথেষ্ট অর্থ না দিলে সুরক্ষা দেবেন না ট্রাম্প
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মিত্রদের রক্ষা করতে চান না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের মিত্রদের সুরক্ষায় তার ইচ্ছা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, নিজের প্রতিরক্ষায় ন্যাটো সদস্যরা যদি যথেষ্ট অর্থ ব্যয় না করে তবে তিনি তাদের সুরক্ষা দেবেন না।
ওয়াশিংটনে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সাধারণ বোধের বিষয়, তাই না?’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা যদি অর্থ না দেয়, আমি তাদের সুরক্ষা দিতে যাব না। না, আমি তাদের সুরক্ষা দিতে যাব না।’
ট্রাম্প বলেন, তিনি বছরের পর বছর এই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আসছেন এবং আগের মেয়াদে (২০১৭-২১) প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ন্যাটো মিত্রদের তিনি এটা জানিয়েছিলেন। ওই প্রচেষ্টার কারণে ৭৫ বছরের পুরোনো ট্রান্স–আটলান্টিক জোটের অন্য সদস্যরা আরও বেশি ব্যয় করতে উৎসাহিত হয়েছেন। তবে এখনো তা যথেষ্ট নয়। তাদের আরও অর্থ ব্যয় করতে হবে।
ন্যাটো জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে একটি পারস্পরিক সহায়তার ধারা রয়েছে। মিত্র ভূখণ্ডে সোভিয়েত আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রাথমিক লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়েছিল এ জোট।
ট্রাম্পের মন্তব৵ ইউরোপ থেকে এশিয়ার রাজধানীগুলোতে সতর্ক ঘণ্টা বাজাতে পারে। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বাগ্বিতণ্ডার পর কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চুক্তি করতে ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে শঙ্কিত অন্য নেতারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্বিগ্ন ইউরোপের নেতারা আরও বেশি নিরাপত্তা ব৵য় বাড়ানোর ও ইউক্রেনের পাশে থাকার পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ‘আমি জানি, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কারও কারও উদ্বেগ থাকতে পারে। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ট্রান্স–আটলান্টিক সম্পর্ক এবং ট্রান্স–আটলান্টিক অংশীদারত্ব আমাদের জোটের ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি এবং ন্যাটোর প্রতি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ট্রাম্প তাঁর প্রত্যাশাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইউরোপে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি কিছু করতে হবে।’
ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো সদস্যরা তাঁর বন্ধু। কিন্তু প্রশ্ন তোলেন, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ সংকটের মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করবে কি না। তিনি বলেন, ‘আপনি কি মনে করেন, তারা এসে আমাদের রক্ষা করবে? তাদের তো করার কথা। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই।’
ট্রাম্প বলেন, ব্যয়ের সমস্যাটি সমাধান করা গেলে তিনি ন্যাটোকে ভালো হিসেবে দেখেন। এ নিরাপত্তা জোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের বাণিজ্যে বাধা দিচ্ছে।’
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছিলেন।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক বৈঠকে ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ৯/১১-এর পর আফগানিস্তানে যুদ্ধে ফ্রান্স এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ মার্কিন সেনাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুগত ও বিশ্বস্ত মিত্র’।
১২ দেশের দূতাবাস বন্ধ করা হচ্ছে
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ১২টির বেশি দেশে দূতাবাস বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী দূতাবাসগুলোতে কর্মী সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবাধিকার, শরণার্থী, বৈশ্বিক ফৌজদারি বিচার, নারীবিষয়ক সমস্যা এবং মানব পাচার প্রতিরোধের প্রচেষ্টার মতো ক্ষেত্রে কাজ করা ওয়াশিংটনে অবস্থিত বেশ কয়েকটি বিশেষজ্ঞ ব্যুরোকে একীভূত করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
-
কানাডার খবর2 days agoআসন্ন উপনির্বাচনে এমপিপি প্রার্থী আহসানুল হাফিজ এর প্রার্থিতা ঘোষণা
-
বাংলাদেশের খবর4 days agoসেনাবাহিনীতে রদবদল: নতুন কিউএমজি শাহীনুল, এনডিসিতে ফয়জুর
-
আন্তর্জাতিক12 months ago
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি : ন্যাটো সদস্যরা যথেষ্ট অর্থ না দিলে সুরক্ষা দেবেন না ট্রাম্প
-
নির্বাচিত2 weeks ago
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাধারণ মানুষের যাওয়া কি অপরাধ?
-
নির্বাচিত4 days agoতারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম
-
টরন্টোর খবর1 week agoটরন্টোতে স্থায়ী শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
-
বাংলাদেশের খবর3 weeks ago
সবার সহযোগিতা না পেলে সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারতাম না: সিইসি
-
অর্থনীতি1 year ago
ফার্মাকেয়ার চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথা বললেন ট্রুডো
